বাংলা UGC NET - মাইকেল মধুসূদন দত্ত - মেঘনাদবধ কাব্য প্রশ্ন উত্তর

 "সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর চূড়ামণি " মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য রচনা। Bangla UGC NET and WB SET পরীক্ষায় অত্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রতিটি Text পড়া অবশ্যই গুরুত্বপুর্ণ। তাই আমি যথাসম্ভব প্রতিটি তথ্য তোমাদের সামনে তুলে ধরেছি। যাতে কোনো ভাবেই কোনো অসুবিধা না হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য প্রশ্ন উত্তর আলোচনা


বাংলা UGC NET - মাইকেল মধুসূদন দত্ত - মেঘনাদবধ কাব্য প্রশ্ন উত্তর :

মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা:

  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত "মেঘনাদবধ কাব্য" রচনা শুরু করেছিলেন ১৮৬০ সালের জুন জুলাই মাসে
  • প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে (১২৬৭ বঙ্গাব্দে বাইশে পৌষ)। 
  • প্রথম খন্ডে অন্তর্ভুক্ত হয় প্রথম থেকে পঞ্চম স্বর্গ
  • দ্বিতীয় খন্ডে অন্তর্ভুক্ত হয় ষষ্ঠ থেকে নবম স্বর্গ
  • দ্বিতীয় খন্ডের প্রকাশকাল ১৮৬১ সালের প্রথম দিকে জুন মাসে।
  • মেঘনাদবধ কাব্য উৎসর্গ করেছিলেন দিগম্বর মিত্র কে। তিনি প্রথম সংস্করণের খরচ বহন করেছিলেন।
  • কাব্যটিতে মোট নটি স্বর্গ আছে।
  • দ্বিতীয় সংস্করণের টিকা ও ভূমিকা সহ সংস্করণ করেছিলেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ।
  • দ্বিতীয় সংস্করণের দুটি খন্ড। প্রথম খন্ড 1862 ( 1269 বঙ্গাব্দ)।
  • দ্বিতীয় খন্ড 1863 ( 1270 বঙ্গাব্দ)।
  • কাব্যের অখন্ড সংস্করণ প্রকাশ করেন ২০ জুলাই ১৮৬৯।
  • মধুসূদন দত্ত  কৃষ্ণকুমারী নাটকটি রচনা করেন মেঘনাদবধ কাব্যের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বর্গের রচনাকালের মাঝখানে ।
  • তৃতীয় ও চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে,।
  • পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে।
  • দিগম্বর মিত্রকে উৎসর্গ করা পত্রটি মধুসূদন তৃতীয় সংস্করণ থেকে বর্জন করেন কারণ ইউরোপ প্রবাসে কবি দিগম্বর মিত্র সম্পর্কে বিরূপতা জন্মেছিল।
  • প্রথম সংস্করণের প্রথম খন্ডে মঙ্গলাচরণ রূপে উৎসর্গ পত্রটি মুদ্রিত হয়েছিল ।
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কাব্যের ভূমিকায় কিছু ত্রুটির উল্লেখ করেছেন সেগুলি হল কাব্যে প্রথা বহির্ভূত নিয়মে ক্রিয়া পদে ব্যবহৃত হয়। যেমন : স্তুতিলা ও মর্মরিছে।
  • সর্বোপরি বিরাম যতি সংস্থাপনের দোষে মাইকেলের রচনা স্থানে শ্রুতি দুষ্ট হয়েছে।
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কাব্যের ভূমিকায় যে ত্রুটিগুলি বলেছেন সেগুলি হল :
  • কাব্যের জটিলতা দোষ মধুসূদনের কাব্যের প্রধান দোষ। 
  • রাশি রাশি উপমা স্তুপাকার করলেও মধুসূদনের রচনার সর্বত্র উপমা গুলি উপনীত বিষয়ের উপযোগী হয় না।
  • মেঘনাদবধ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ১৫ ই আগস্ট।
  • অনুবাদটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৯৫ টি।
  • অনুবাদ শেষ হয়েছে মেঘনাদের পতনে।
  • ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ বেনারস থেকে কাব্য অনুবাদ করেন রাজেন্দ্রনাথ সেন।
  • হিন্দি সাহিত্য মধুসূদনের শ্রেষ্ঠ ভক্ত কবি মৈথিলীশরণ গুপ্ত অনুবাদ করেন ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
  • মনিপুরী অনুবাদ করেন নবদ্বীপচন্দ্র সিং( ছটি সর্গ)।
  • নবদ্বীপচন্দ্রের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন শ্রী এন মনিকেতন সিং ।
  • ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে মার্চ মাসে বেঙ্গল থিয়েটারে মেঘনাদবধ কাব্যের নাট্যরূপ প্রদর্শিত হয়।
  • ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ ন্যাশনাল থিয়েটার, পরিবর্তিত নামকরণ ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রথম অভিনীত নাটক মেঘনাদবধ পঞ্চম অঙ্গের সমাপ্ত।
  • মেঘনাদবধ কাব্যের নাট্যরূপ গিরিশচন্দ্র স্বয়ং নাটক আকারে গ্রন্থিত করেছিলেন ।।
  • ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে এই নাট্যরূপ উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় কতৃক ৬৮ পৃষ্টা পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয় ।
  • মেঘনাথবধ কাব্যের প্যারোডি রচনা করেছিলেন ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও জগবন্ধু ভদ্র।
  • জগবন্ধু ভদ্র রচিত প্যারোডির নাম ছুচ্ছুন্দরীবধ  কাব্য ।
  • কাব্যটি প্রকাশিত হয় শিশির কুমার ঘোষের অমৃতবাজার পত্রিকায় ১২ই আশ্বিন ১২৭৫ সন।
  • ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্যারোডি বাঙালির ভারত উদ্ধার কাব্য।
  • সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধে সজনীকান্ত দাস মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম স্বর্গের প্রারম্ভিক কয় ছত্রের প্যারোডি রচনা করেন ।
  • কাব্যে বর্ণিত ঘটনার বিস্তার তিন দিন দুইরাত্রি।স্বর্গ সংখ্যা নটি। দীর্ঘতম স্বর্গ অষ্টম। ক্ষুদ্রতম স্বর্গ নবম।

মেঘনাদবধ কাব্য:

  • প্রথম স্বর্গ:

  • প্রথম স্বর্গের নাম অভিষেক।
  • রামসৈন্যের সঙ্গে শৈনের যুদ্ধের পশ্চাৎপটে লঙ্কাধিপতি রাবনের রাজসভার দৃশ্য উন্মোচিত ভগ্নদূত মকরাক্ষ চিত্রাঙ্গদার পুত্র বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ রাবণ কে দেয়। রাবণ মেঘনাথকে যুদ্ধের জন্য সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
  • প্রথম চরণ : "সম্মুখ সমরে পড়ি ,বীর চূড়ামনি ।
  • দ্বিতীয় চরণ : পুরিল কনক লঙ্কা জয়  জয় রবে।
  • " কুবলয়" কথার অর্থ পদ্ম ।
  • ইরম্বদ কথার অর্থ ধনুকের ছিলার শব্দ।
  • কলম্বকুল অর্থ তীর গুলি।
  • মধুসূদন দত্ত কাব্যের শুরুতে সরস্বতী বন্দনা করেছেন।
  • সরস্বতীকে অমৃতভাষিনী বলেছেন ।
  • মকরাক্ষ নামে এক ভগ্নদূত বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ রাবণকে দেয় ।
  • রক্ষকুলের মেয়ের ছদ্মবেশ ধরে রমা ও মুরলা রাক্ষসবীরের যুদ্ধযাত্রা দেখতে যায় ।
  • মেঘনাথকে বীরবাহুর সংবাদ দেয় রমা।
  • প্রভাষার ছদ্মবেশে মেঘনাথকে বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ দেয় ।

  • দ্বিতীয় স্বর্গ:

  • দ্বিতীয় সর্গের নাম অস্ত্র লাভ।
  • প্রথম চরণ: " অস্তে গেলা দিনমনি
  • আইলা গোধূলি এক রতন ভালে। 
  • শেষ চরণ : "রাক্ষস বাহিনী কোন ভীম 
  • প্রহরনধারী মত্ত বীর মদে।"
  • "মলম্বা অম্বরে তাম্র এত শোভা যদি ধরে"  অর্থ— যে তামা সোনার গিলটিতে আচ্ছাদিত।
  • সূর্যকে দিনমনি বলা হয়েছে।
  • গন্ধর্ব কুলপতি চিত্ররথ লক্ষণকে দেব অস্ত্র দেয় দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে।
  • "ওদন" অর্থ খাদ্য।

Disclaimer :

আজকের এই লেখনীতে সমস্ত তথ্যই আমি বিভিন্ন সাহিত্যিকদের লেখা গ্রন্থ থেকে এবং মূল পাঠ্য বইটি পড়ে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছি। অনুগ্রহ করে কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বা Email এর মাধ্যমে আমার সাথে আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন। ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থী। 

বাংলা ইউজিসি নেট (UGC NET) এবং ডাবলু বি সেট (WB SET)  পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয় ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়া আবশ্যক এবং আমার দেয়া এই তথ্য তোমাদের নোটবুকে অবশ্যই লিখে রাখতে পারো । এবং তোমাদের বন্ধুদের সাথেও এটি শেয়ার করতে পারো ।কিন্তু অনুগ্রহ করে কেউ কপি পেস্ট করে নিজেদের নামে চালানোর চেষ্টা করবে না ।নাহলে করা পদক্ষেপ নেয়া হবে। ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.